
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে বসলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ভেনেজুয়েলার মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকা সংবলিত একটি গ্রাফিক শেয়ার করে দেশটিকে আমেরিকার ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
বুধবার (১৩ মে) একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরের পথে থাকাকালীন এই উস্কানিমূলক পোস্টটি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো যখন ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি ও ভেনেজুয়েলার অবস্থান
এর আগে গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্পের দাবি, কয়েক মাস ধরেই তেলসম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটিকে তিনি নিজের ‘নিয়ন্ত্রণে’ রেখেছেন।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির কড়া জবাব দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তার দেশ কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা ভাবেনি। এমনকি গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পরেও তারা মার্কিন আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়।
ডেলসি রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে জানান, ভেনেজুয়েলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা ‘কখনোই’ চিন্তা করেনি। তারা মার্কিন হস্তক্ষেপ বা আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়।
সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
ক্ষমতায় আসার পর ডেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে হেঁটেছেন। এরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার খনি ও জ্বালানি খাত আবারও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্বাচনের দাবি দীর্ঘদিনের। গত ১ মে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন যে, নির্বাচনের সঠিক সময় নিয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত নন। তার মতে, নির্বাচন ‘কোনো এক সময়ে’ অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পোস্টটি কেবল উস্কানিমূলক নয়, বরং এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের একটি সরাসরি বার্তা। ট্রাম্পের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ তত্ত্ব ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি।