
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই যখন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের মহাতারকারা গোল উৎসবে মেতেছেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত এক বিবর্ণ চিত্রের জন্ম দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই লিওনেল মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিক এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্ডের চোখ ধাঁধানো জোড়া গোলের পাশাপাশি ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল পাওয়ার দিনে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে পর্তুগাল। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে তারা, যার চেয়েও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে সিআরসেভেনের অফ-ফর্ম।
পুরো নব্বই মিনিট জুড়েই পর্তুগিজ এই মহাতারকাকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ম্যাচের প্রথমার্ধে যেমন তিনি সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ ছিলেন, তেমনি দ্বিতীয়ার্ধেও দলের জয়ে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন। মাঠের বেশ কিছু জায়গায় বলের নিয়ন্ত্রণ পেলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভেঙে গোলমুখে কোনো বিপজ্জনক শট নিতে পারেননি সিআরসেভেন।
উল্টো ম্যাচের একাধিক নিশ্চিত ও সম্ভাবনাময় সুযোগ হাতছাড়া করায় হতাশায় পুড়তে হয়েছে গ্যালারিতে থাকা তার ভক্ত-সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট সম্বল করে মাঠ ছাড়তে হয় সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নদের।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এই ম্যাচে জালের দেখা না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বড় টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলহীন থাকার রেকর্ডটি আরও দীর্ঘায়িত হলো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ঘানার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করার পর, বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে টানা ১০টি ম্যাচ পার হয়ে গেলেও আর কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।
পর্তুগালের জার্সিতে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আসরে এটিই রোনালদোর ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম গোল খরা। এর চেয়েও চমকপ্রদ তথ্য হলো, পেনাল্টি বাদে ‘ওপেন প্লে’ থেকে তিনি সর্বশেষ গোল করেছিলেন ইউরো ২০২০ (যা করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল) আসরে জার্মানির বিপক্ষে। অর্থাৎ, কোনো মেজর টুর্নামেন্টে পেনাল্টি ছাড়া বিগত দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গোলের দেখা পাননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো! ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকারের নামের পাশে এমন একটি পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বেশ অনভিপ্রেত ও লজ্জাজনক।