
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এক বছর পর প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দুর্ঘটনার আগের শেষ সাত মিনিটের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ। এ সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের শেষ যোগাযোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুহূর্ত এবং বিধ্বস্ত হওয়ার সময়ক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অভিভাবকসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিশু শিক্ষার্থী।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম তার প্রথম একক উড্ডয়নে অংশ নেন। তিনি আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রশিক্ষণ ফ্লাইট শুরু করেন। চীনে তৈরি এক আসনের এই যুদ্ধবিমান মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ও শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে বিমানটি প্রথম এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এরপর দুপুর ১টা ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে রানওয়ে-১৪ থেকে উড্ডয়ন করে ১ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় উঠে সার্কিট ফ্লাইং অনুশীলন শুরু করেন পাইলট।
প্রথম সার্কিট শেষ হওয়ার পর অফিসার কমান্ডিং দ্বিতীয় সার্কিট শুরু করার নির্দেশ দেন এবং পাইলট তা গ্রহণ করেন। পরে দুপুর ১টা ১১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে তাকে ‘বেজ টার্ন’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুই সেকেন্ড পর, অর্থাৎ দুপুর ১টা ১১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে পাইলট ‘রজার, টার্নিং লেফট’ বলে জবাব দেন। তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল এটিসির সঙ্গে তার শেষ কথোপকথন।
এরপর দুপুর ১টা ১৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডে বিমানটির সঙ্গে এটিসির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যোগাযোগ হারানোর পর টানা পাঁচবার বিমানটির অবস্থান জানতে চাওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অবশেষে দুপুর ১টা ১৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে অফিসার কমান্ডিংয়ের মাধ্যমে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানানো হয়। মাত্র ছয় সেকেন্ড পর, দুপুর ১টা ১৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে দুর্ঘটনার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করা হয়।
প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার আগের এই সময়ক্রম তুলে ধরা হলেও, দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে প্রতিবেদনে আলাদা কারিগরি বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।