
মার্কিন ডলার ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের মুখে পড়েছে। প্রধান মুদ্রাগুলোর একটি ঝুড়ির বিপরীতে চলতি বছরে ডলারের দর কমেছে প্রায় ৯.৫ শতাংশ। ফেডারেল রিজার্ভের সুদ কমানোর নীতি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা এই দুর্বলতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নতুন ও আক্রমণাত্মক শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর ডলারের পতন ত্বরান্বিত হয়। একপর্যায়ে ডলার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়, যদিও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে ফেড আবার সুদ কমানো শুরু করায় ডলারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকে।
প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে ইউরো সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। চলতি বছরে ইউরোর দর প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ১.১৭ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ফেড যদি আগামী বছরও সুদ কমানোর পথে থাকে এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হার স্থিতিশীল রাখে বা বাড়ায়, তবে ইউরো আরও শক্তিশালী হতে পারে।
ডয়চে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান জর্জ সারাভেলোস বলেন, ফ্রি-ফ্লোটিং বিনিময় হার ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি ডলারের জন্য অন্যতম দুর্বল বছর। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীরা ক্রমশ ডলারের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ঐতিহ্যগত ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করছেন।
বাজার অংশগ্রহণকারীরা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ফেডের পক্ষ থেকে দুই থেকে তিন দফা সুদ কমানোর প্রত্যাশা করছেন। বিপরীতে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে এবং নীতিগতভাবে আরও কড়া অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউরোর দর ১.২০ ডলারে এবং পাউন্ডের দর প্রায় ১.৩৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগও ডলারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। নতুন ফেড চেয়ার যদি হোয়াইট হাউসের সুদ কমানোর আহ্বানে সাড়া দেন; এমন ধারণা তৈরি হলে ডলারের দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে।
ডলারের পতন মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য ইতিবাচক হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ডলার ঝুঁকি হেজ করতে শুরু করায় ডলারের ওপর অতিরিক্ত নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জোয়ার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রাখতে পারে, যা ফেডের আক্রমণাত্মক সুদ কমানোর সুযোগ সীমিত করতে পারে। তবুও সামগ্রিকভাবে আগামী বছর ডলারের গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।