
ইরান ও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—কোথাও শোক, কোথাও আবার উল্লাস। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ইরানি অভিনেত্রী মান্দানা কারিমি।
ইরানে গণতন্ত্র ও নারীর অধিকারের প্রশ্নে বরাবরই খামেনির নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত মান্দানা। সম্প্রতি এই ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি পোস্ট তাকে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিগ বস’ খ্যাত এই ইরানি অভিনেত্রী তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন যে তিনি দীর্ঘদিনের কট্টরপন্থী শাসনের অবসান চান। এ কারণেই তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন।
তার মতে, ট্রাম্পই পারেন ইরানের গভীর ‘অন্ধকার’-এর মুক্তিদাতা হতে। আমেরিকার হস্তক্ষেপ এবং ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে ইরানি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব হতে পারে—এমন আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
মান্দানার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একদিকে যখন ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেত্রী ফারহানা ভাট খামেনির মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে শোক প্রকাশ করছেন, তখন মান্দানার প্রকাশ্য উচ্ছ্বাস নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
তবে এই প্রথম নয়—মান্দানা কারিমি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচক। দেশটিতে হিজাববিরোধী আন্দোলনের সময়ও তিনি সরব ছিলেন। নিজ দেশের নারীদের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় একাধিকবার বিতর্ক ও সমস্যার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
তেহরানে জন্ম নেওয়া মান্দানা কারিমি কর্মজীবনের শুরুতে কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেন। পরে নিজ দেশে মডেল হিসেবে পরিচিতি পান। মডেলিংয়ের সূত্রে ২০১০ সালে তিনি মুম্বাইয়ে আসেন। এরপর ২০১৩ সালে রণবীর কাপুর অভিনীত ‘রয়’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার।
পরবর্তীতে ‘ভাগ জনি’, ‘ম্যায় অউর চার্লস’ এবং ‘কিয়া কুল হ্যায় হাম ৩’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। তবে রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ৯’ এবং ‘লক আপ’-এ অংশ নেওয়ার পর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায় এই ইরানি অভিনেত্রীর।