
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত নেতার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ১৮ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং অপর সদস্য হিসেবে ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার সাতজন আসামিরই আত্মসমর্পণের দিন ধার্য ছিল। তবে তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের পলাতক ঘোষণা করা হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। উপস্থিত ছিলেন আরও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও ছয়জন পলাতক নেতা সরকারি খরচে আইনজীবী পাচ্ছেন। তারা হলেন– আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ এই সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যার নির্দেশ দেওয়া, প্ররোচনা ও উসকানির দায় আনা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২৯ ডিসেম্বর তাদের হাজির হওয়ার দিন ধার্য থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর আদালত সংবাদপত্রের মাধ্যমে তাদের হাজির হওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। আজকের শুনানি পর্যন্ত তারা উপস্থিত না হওয়ায়, আদালত নিয়ম অনুযায়ী স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল।