
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদকজাত পণ্য বিক্রির অভিযোগে বহুল ব্যবহৃত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলাটি করা হয়। এর একদিন আগে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধানের অধীনে এটিই প্রথম মামলা বলে জানিয়েছেন তারা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত ২০২০ এবং ২৬)-এর ৩৬-এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে জড়িত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকার যে কোনো মূল্যে মাদকের বিস্তারে লাগাম টানতে চায়। এ কারণে সম্প্রতি সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দারাজ ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফরমের ওপর নজরদারি অব্যহত আছে।’
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি ওয়েল’ নামে একটি পণ্য ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই করতে নারকোটিক্সের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সম্প্রতি ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন।
পরবর্তী সময়ে দারাজের একজন ডেলিভারি কর্মী কয়েকটি সিবিডি ওয়েল সরবরাহ করেন। নমুনাগুলো রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে সেখানে মাদকদ্রব্য থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরীক্ষায় দেখা যায়, ‘সিবিডি ওয়েল’ নামে বিক্রি হওয়া পণ্যটিতে উচ্চমাত্রায় গাঁজার তরল উপাদান বা টিএইচসি (ট্রেট্রা হাইড্রো কন্যাবিস) রয়েছে।
নারকোটিক্সের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘দারাজে বিক্রিত পণ্যে মাদক পাওয়ার পর পরই সংশ্লিষ্ট পণ্যের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। রোববার বিকালে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকর একটি ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে মজুদকৃত বিপুল পরিমান সিবিটি ওয়েল এবং এ সংক্রান্ত নানা ধরনের উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানার মালিক এবং দারাজের পণ্য সরবরাহকারি আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।’
অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার আনিসুর রহমান দীর্ঘ সময় জাপানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে থাকাকালে তিনি গাঁজার তরল উপাদান ব্যবহার করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তেল তৈরির কৌশল শেখেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
পরে ঢাকায় ফিরে সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযানসংশ্লিষ্টদের দাবি।