
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রচারে নতুন নতুন ইস্যু সামনে আসছে—আর এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাঙালির প্রিয় খাবার মাছ। প্রার্থীদের বক্তব্যে যেমন মাছ উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি শোনা যাচ্ছে, তেমনি মৎস্যজীবীদের উন্নয়ন নিয়েও দেওয়া হচ্ছে নানা আশ্বাস।
নির্বাচনী প্রচারে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। এর পাশাপাশি বাঙালির খাদ্যাভ্যাসও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হবে। জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি আপনাদের মাছ খেতে দেবে না। মাংস, ডিমও খেতে দেবে না। যদি আপনারা খান, তাহলে আপনাদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করবে।’
অন্যদিকে, বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের সামাজিক মাধ্যমে ইলিশ ভাপা, পাবদার ঝাল, চিংড়ি মালাইকারি ও কষা মাংসের ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘পর্যটকদের স্বাগত জানাই পশ্চিমবঙ্গে। এখানে এলে এসব খাবার মিস করবেন না।’ এই প্রচারকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনসভায় বলেন, ‘বাংলায় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এর উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ স্বনির্ভর নয়। এখানে মাছের চাহিদা মেটানোর জন্য অন্য রাজ্য থেকে আমদানি করতে হয়। গত ১১ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটা করতে পারেনি।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করে বলেন, ‘আগে হায়দ্রাবাদ থেকে মাছ আসতো। এখন আর আসে না। বিজেপি বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে মাছ খেতে দেয় না। দোকান বন্ধ করে দিয়েছে।’
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারসহ দলের অন্যান্য নেতারাও মাছ ইস্যুতে তৃণমূলের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে মাছ উৎপাদন বাড়ানো ও মৎস্যজীবীদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের মধ্যে মাছকে ঘিরে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও দেখা যাচ্ছে। বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বড় আকারের কাতলা মাছ হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালিয়েছেন এবং ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়ায় কোনো বাধা আসবে না। খড়গপুরে প্রচারণার সময় বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ মাছের বাজারে ঢুকে প্রচারে অংশ নেন।
অন্যদিকে, নববর্ষের সকালে টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস ভিন্নধর্মী প্রচারণা চালান। গড়িয়া এলাকায় তার সমর্থকরা বড় ট্রেতে রুই মাছ নিয়ে তার সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মাছ ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি মাছ খেতে পারবে না।’