
রাজধানীর দক্ষিণখানে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন রাজিয়া সুলতানা নামের এক নারী পুলিশ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার রাতে মোল্লারটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটে। ২৮ বছর বয়সী রাজিয়া পুলিশের নায়েক পদে এপিবিএন সদরদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামের নাসির উদ্দিন বাচ্চুর সন্তান।
দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক পলাশ আহমেদ জানান যে রাজিয়া ও তার স্বামী রাজীব মিয়া উভয়েই পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত। রাজীব ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়েতে কনস্টেবল হিসেবে নিয়োজিত এবং তার বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়। চাকরির সুবাদে রাজিয়া ঢাকায় থাকলেও রাজীব প্রতি সপ্তাহে কর্মস্থল থেকে এসে স্ত্রীর সাথে সময় কাটাতেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে এসআই পলাশ জানান যে মোবাইল ফোন ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে দম্পতির মধ্যে মান-অভিমান তৈরি হয়েছিল। রাজীবের ভাষ্য অনুযায়ী রাজিয়া বৃহস্পতিবার তার ব্যবহৃত আইফোন টুয়েলভ প্রো ম্যাক্সটি ভেঙে ফেলেন যার আগেও তিনি একটি ভিভো ফোন নষ্ট করেছিলেন। এই নিয়ে বিবাদের একপর্যায়ে রাত ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে রাজিয়া ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে রাজীব তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধ্যরাতে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবার ও বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে যে ট্রেনিং চলাকালীন রাজীব ও রাজিয়ার পরিচয় হয় এবং দীর্ঘ প্রেমের পর পাঁচ বছর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ১৯ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রাজীবের বন্ধু শামীম আল মাহীন জানান যে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং মরদেহ দেখতে পান। তবে ঠিক কী কারণে রাজিয়া এমন চরম পথ বেছে নিলেন সে সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।