
ইরান ঘোষণা করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটিই তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র এই সাফল্যের দাবি করেছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল এবং ১৭টি ঘাঁটিই এখন পর্যন্ত ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে পারেনি।’
২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংঘর্ষের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে আক্রমণাত্মক নীতি হিসেবে রূপান্তরিত করেছে। শেখারচি বলেন, ‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনও দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না। ইরানের আক্রমণাত্মক নীতির অর্থ হলো, যদি কোনও দেশ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত করব যতক্ষণ না তা ধ্বংস হয় এবং আমরা তাদের ছেড়ে দেব না।’
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মুখপাত্র জানান, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো হবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি। দেশগুলোকে আমাদের শর্ত সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে।’
শেখারচি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা দেয়ার মিথ্যা দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি করেছে এবং ওই দেশগুলোর অর্থায়নে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের সক্ষমতা প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা আমাদের সামরিক ব্যবস্থা ক্রমাগত উন্নত করছি, যাতে যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।’ এছাড়া তিনি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।’