
ভারতের মণিপুরে জাতিগত অস্থিরতার মাঝে এবার প্রাণ হারালেন তিন জন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। বুধবার (১৩ মে) রাজ্যের কাংপোকপি জেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
ফের রক্তাক্ত মণিপুর: যেভাবে ঘটল হামলা
চুরাচাঁদপুর জেলার লামকা এলাকায় আয়োজিত টিবিএ সম্মেলন শেষে দুটি গাড়িতে করে ফিরছিলেন ধর্মীয় নেতাদের একটি দল। ফেরার পথে ওত পেতে থাকা একদল বন্দুকধারী তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত হন এবং অন্তত ৫ জন গুরুতর জমান হন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন— মণিপুর ব্যাপটিস্ট কনভেনশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেভারেণ্ড ভি সিতলহাউ, থাডৌ ব্যাপটিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতা রেভারেণ্ড ভি কাইগোলুন এবং যাজক পাওগোলেন। আহতদের মধ্যে রেভারেণ্ড এস এম হাওপু ও রেভারেণ্ড হেকাই সিমতের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রতিবাদে উত্তাল জাতীয় সড়ক
এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মণিপুরের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ২ নম্বর জাতীয় সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ জারি করা হয়েছে। কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (KSO) এই দিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাজ্যজুড়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তবে মানবিক কারণে সংবাদমাধ্যম, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় আঘাত
নিহত রেভারেণ্ড ভি সিতলহাউ সম্প্রতি নাগাল্যান্ড জয়েন্ট ক্রিশ্চিয়ান ফোরামের সাথে চলমান শান্তি আলোচনায় সক্রিয় ছিলেন। শান্তি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত একজন নিরপরাধ নেতার ওপর এমন হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে কুকি ইনপি মণিপুর। সংগঠনটির দাবি, এই হামলা সরাসরি শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার একটি ষড়যন্ত্র। থাডৌ নেতা ও বিজেপি মুখপাত্র মাইকেল লামজাথাং থাডৌ এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে কাংপোকপি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।