
মহাকাশে কি সত্যিই মানুষের বাইরে অন্য কোনো উন্নত প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে? বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার নিজেদের আর্কাইভে থাকা রহস্যময় ‘অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু’ বা ইউএফও (UFO) সংক্রান্ত গোপন নথির প্রথম অংশ জনসমক্ষে উন্মোচন করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। এর মাধ্যমে অজানা এই মহাজাগতিক রহস্য নিয়ে সাধারণ মানুষকে নিজস্ব মতামত তৈরির সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
গোপন ফাইল উন্মুক্ত করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
শুক্রবার (৮ মে, ২০২৬) পেন্টাগনের নবগঠিত ‘অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস’ (AARO) তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রথম দফার নথিগুলো প্রকাশ করে। এই ফাইলগুলোতে গত কয়েক দশকে মার্কিন সামরিক পাইলট ও রাডার অপারেটরদের চোখে পড়া বিভিন্ন অস্বাভাবিক আকাশযান বা আলোর ঝিলিক সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, এই নথিগুলো প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভিনগ্রহের যান নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানো।
নিজস্ব মতামত তৈরির সুযোগ
পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, তথ্যগুলো জনগণের সামনে আসায় এখন মানুষ নিজেরাই বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারবে। প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে কর্মকর্তাদের ভাষ্য:
"Make up their own minds" (অর্থাৎ, এসব তথ্য দেখে মানুষ নিজেরাই যেন তাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে)।
এই নথিগুলোতে এমন অনেক ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে আকাশযানগুলোকে এমন উচ্চগতি বা কৌশলে উড়তে দেখা গেছে, যা বর্তমান মানব-প্রযুক্তিতে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়। তবে পেন্টাগন এখনো সরাসরি এগুলোকে ‘ভিনগ্রহের যান’ বলে স্বীকার করেনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও তথ্যের ধরন
প্রকাশিত প্রথম কিস্তির তথ্যে মূলত বিগত সময়ের সেন্সর ডেটা, মানচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য স্থান পেয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু; পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকশ ফাইল সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইউএফও নিয়ে মার্কিন সরকারের যে কঠোর গোপনীয়তা ছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তা অনেকটাই শিথিল হলো। মহাকাশ গবেষণা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই নথিগুলো নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক দিক খুলে দিতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: আল জাজিরা।