
সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহ কাটিয়ে দিল্লিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিতে যাচ্ছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ভারতের রাজধানীতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে উপস্থিত হবেন।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় একটি সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজনাথ সিং চাণক্যপুরীর বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে গিয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সদ্যপ্রয়াত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে রাখা শোকপুস্তিকায় নিজের বার্তা লিখবেন। কূটনৈতিক মহলে এই সফরকে বিএনপির প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্রমবর্ধমান ইতিবাচকতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২৩ ডিসেম্বর দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ডাকে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে ওই এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তারও তিন দিন আগে, ২০ ডিসেম্বর রাতে, একদল বিক্ষোভকারী একই কমপ্লেক্সে অবস্থিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের সামনে গিয়ে স্লোগান দেয়। তখন হাই কমিশনারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাগুলোর জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে অল্প সময়ের ব্যবধানে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো একজন ভিভিআইপির সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসে যাওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
যদিও খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক জানানোই রাজনাথ সিংয়ের সফরের মূল উদ্দেশ্য, তবে হাই কমিশন প্রাঙ্গণে তার সরাসরি উপস্থিতি এটাও স্পষ্ট করছে যে ভারত বাংলাদেশ দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বোচ্চ আশ্বাস দিতে চাইছে।
এর আগের দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্ককর ঢাকা সফরে গিয়ে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানান এবং তার জানাজায় অংশ নেন। সফরকালে তিনি খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং তার হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা একটি চিঠি তুলে দেন।
ভারতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষক এস জয়শঙ্ককরের এই সফরকে ব্যাখ্যা করেছেন আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচনকে সামনে রেখে। তাদের মতে, দিল্লি বিএনপির সম্ভাব্য রাজনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাচ্ছে এবং খালেদা জিয়ার জানাজার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সহজ করতে চাইছে।
ভারত এর আগেই একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসবে, দিল্লি তাদের সঙ্গে ‘এনগেজ করতে’ প্রস্তুত। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ‘যারাই’ বলতে যে বিএনপিকেই বোঝানো হচ্ছে, দিল্লিতে তা মোটামুটি স্পষ্ট।
এস জয়শঙ্ককরের ঢাকা সফরের পরপরই বাংলাদেশ হাই কমিশনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের আগমন সেই কৌশলগত অবস্থানের আরেকটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।