
রাজকীয় সাজ, কড়া নিরাপত্তা আর বিশাল গাড়িবহর—সবকিছুই চলছিল প্রোটোকল মেনে। কিন্তু মাঝপথে হঠাৎ থেমে যায় বহর। কারণ, ‘প্রকৃতির ডাক’। আর সেই প্রয়োজন মেটাতে সড়কের পাশেই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতে দেখা যায় নাইজেরিয়ার এক প্রভাবশালী গভর্নরকে।
সম্প্রতি এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নাইজেরিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে ভিডিওটি প্রকাশ করে নাইরোবি টাইমস। দেশের একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধির এমন আচরণে জনমনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—কারও কাছে এটি চরম অশোভন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত, আবার কেউ বলছেন এটি নিছক মানবিক পরিস্থিতি।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা রাজকীয় পোশাক পরিহিত ওই গভর্নর হঠাৎ তার গাড়িবহর থামান। এরপর রাস্তার ধারের একটি দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে পড়েন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে বিস্মিত হন আশপাশের পথচারী ও সাধারণ মানুষ।
প্রয়োজন সেরে তিনি পোশাক ঠিক করে প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি ঢেলে হাত ধুয়ে নেন। হাত ধোয়ার সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য বোতলটি মুখে কামড়ে ধরে থাকতে দেখা যায় তাকে। এরপর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে গাড়িতে উঠে পড়েন। পুরো সময়জুড়ে তার নিরাপত্তাকর্মী ও সহযোগীরা কাছেই অবস্থান করছিলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই একে একজন দায়িত্বশীল নেতার জন্য ‘অশোভন’ ও ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ ঘটনাটিকে বিব্রতকর হলেও মানবিক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন।
এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ স্তম্ভিত করার মতো। এটি শিষ্টাচার ও জনজবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “আমাদের নেতারা আমাদের লজ্জিত করছেন। তবে লোকটির জন্য মায়াও হচ্ছে। হয়তো পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।”
গভর্নরের পক্ষ নিয়ে একজন লেখেন, “আমি তাকে দোষ দিচ্ছি না। কোটি টাকার গাড়িবহর বা সাইরেন দিয়ে তো আর প্রকৃতির ডাক থামানো যায় না। এমন পরিস্থিতি যে কারও হতে পারে।”
নাইজেরিয়ার গভর্নরদের ঘিরে বিতর্কিত ঘটনার এটি প্রথম উদাহরণ নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাদুনা রাজ্যের সাবেক গভর্নর Nasir El-Rufai-কে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাকে গ্রেপ্তার করতে আসা ডিএসএস কর্মকর্তাদের সামনে সমর্থকেরা ‘মানবঢাল’ গড়ে তোলেন। পরে এল-রুফাইয়ের আইনজীবীরা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে তার পাসপোর্ট ‘চুরির’ অভিযোগ আনেন। সাবেক এই গভর্নর দাবি করেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ফোন ট্যাপ করে তিনি আগেই সম্ভাব্য ফাঁদের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন।
সূত্র: টিএনএক্স.আফ্রিকা