
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন দৃষ্টি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার দিকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। আর এ সময়েই সামনে এসেছে নতুন প্রশ্ন—মেয়াদ শেষে তিনি কি কোনো সাংবিধানিক পদে থাকবেন, নাকি আগের কর্মপরিসরেই ফিরবেন?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে ড. ইউনূসের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গুঞ্জন রয়েছে, নতুন সরকার চাইলে তিনি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কোনো পদে থাকতে পারেন।
তবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ড. ইউনূসসহ কাউকে নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পদ চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং দেশের সেরা মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে আগ্রহী। নির্বাচনের পর সুবিধাজনক সময়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূসের সঙ্গেও কথা হতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়নি।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, রাজনীতিতে কোনো কিছুই একেবারে অসম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে আগ্রহী তারেক রহমান। উন্নয়ন ভাবনাকে দলীয় সীমার বাইরে নেওয়ার পক্ষেও তিনি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাংবিধানিক পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মত দেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে।
তার মতে, দেশে কিছু সমালোচনা থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন রাষ্ট্রপতির সমন্বয় কার্যকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বার্গম্যান দাবি করেন, তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের আলোচনায় রাষ্ট্রপতির পদ প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবে বিএনপি ও ড. ইউনূসের প্রেস সচিব—উভয় পক্ষই এমন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসেন ড. ইউনূস। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হলে অন্য কোনো সরকারি বা সাংবিধানিক পদে যাওয়ার আগ্রহ তাঁর নেই। তিনি আগের কাজেই ফিরতে চান। তার লক্ষ্য শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণের ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি নতুন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং তরুণদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেন।