
এক মাসব্যাপী উত্তেজনার পর ৪৮ দলের বিশ্বকাপ এখন শেষ চারে। শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছাতে এবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের চার পরাশক্তি। মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে লড়বে স্পেন ও ফ্রান্স। পরদিন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল পরপর দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে থাকবে জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেনের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড। নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে।
এটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের চতুর্থ সেমিফাইনাল। এর আগে ১৯৬৬, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে শেষ চারে খেলেছিল দলটি। অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের আগের ছয়টি সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচটি আরও একটি কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
এবারের সেমিফাইনাল লিওনেল মেসির জন্যও স্মরণীয় হতে যাচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে এটি হবে তাঁর ২০৬তম ম্যাচ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামবেন তিনি।
অন্যদিকে প্রথম সেমিফাইনালে ডালাসের উপকণ্ঠ আর্লিংটনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ফ্রান্স। এটি হবে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি, যেখানে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্পেন এবং পরে শিরোপাও জিতেছিল।
স্পেনের আক্রমণের বড় ভরসা তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ইউরোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় তিনি।
অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রধান অস্ত্র কিলিয়ান এমবাপ্পে। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালসহ এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে আটটি গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি লিওনেল মেসির সমান গোল করেছেন এবং বিশ্বকাপে মেসির সর্বকালের ২১ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এমনভাবে নকআউট সূচি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি না হয়। চার দলই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন দুটি মহারণ শেষে নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী।