
২০২৬ বিশ্বকাপের মহারণ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের পারদ চড়তে শুরু করেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে এবার তীব্র বাক্যবাণ ছুড়েছে ইংল্যান্ড শিবির। ইংলিশদের সাবেক তারকা জো কোলের দাবি, লিওনেল মেসিকে মাঠের বুকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রেখেই ফাইনালে যাওয়ার টিকিট নিশ্চিত করবে থ্রি লায়ন্সরা। তবে কোলের এমন অতি-আত্মবিশ্বাসের মাঝেও আলবিসেলেস্তেদের লড়াকু মনোভাব নিয়ে পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছেন অন্যান্য সাবেক ব্রিটিশ ফুটবলাররা।
নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি বিশেষ ফুটবল টকশোতে গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়েরার ও মাইকা রিচার্ডসের সাথে সেমিফাইনালের রণকৌশল নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করছিলেন জো কোল। আড্ডার একপর্যায়ে মেসির জাদুকরী ফুটবলকে কীভাবে রুখবে ইংল্যান্ড—এমন প্রশ্নের জবাবে কোল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, "আমাদের ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। হ্যাঁ, একশ শতাংশ। আমরা সেটাই করব।"
তার এই চড়া মন্তব্য শোনার পর স্টুডিওতে উপস্থিত বাকি আলোচকেরা হাসতে হাসতেই তাকে সতর্ক করে দেন যে, মাঠের লড়াইয়ের আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ে এত বড় কথা না বলাই শ্রেয়। কেউ কেউ এমনও মন্তব্য করেন, "এখন এসব বলো না, আট মাস পর বলো।" তবে কোল নিজের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র নমনীয় হননি। বরং আরও জোরালো গলায় ঘোষণা করেন, "আমি এখনই বলছি, আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠব।"
অবশ্য সাবেক ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডস মনে করেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বাগে আনা মোটেও সহজ কাজ হবে না। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা বড় ম্যাচগুলোতে কীভাবে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতে হয় তা খুব ভালো করেই জানে। রিচার্ডস বলেন, "আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা খুবই বুদ্ধিমান এবং তারা জন্মগত বিজয়ী। তাদের হারাতে ইংল্যান্ডকে অনেক ঘাম ঝরাতে হবে। তবে আমাদের দলে যে গতি আছে, সেটা আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আমার বিশ্বাস, আমরা জিতব।"
জো কোলের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য অনেক ফুটবলপ্রেমীকে বেশ অবাক করেছে। কারণ, অতীতে এই ইংলিশ মিডফিল্ডার নিজেই বহুবার মেসির পায়ের জাদুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এমনকি পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে অনেক এগিয়ে রেখে খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি।
পূর্বে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোল বলেছিলেন, "আমার মনে হয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ভাবেন, "ইশ, যদি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম!" মেসির সব অর্জনই আছে। তাই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে একমাত্র সে-ই।"
অন্য দিকে, ইংল্যান্ডের সাবেক কাপ্তান গ্যারি নেভিলও এই মেগা সেমিফাইনাল নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। মেসিকে নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও আর্জেন্টিনার দুই রক্ষণভাগের স্তম্ভ ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে এক দারুণ রসাত্মক মন্তব্য করেছেন তিনি।
নেভিল বলেন, "রোমেরো আর লিসান্দ্রোকে দেখলে মনে হয়, প্রতি ম্যাচেই তারা একটি করে গোল উপহার দেবে। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালেই তারা সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন তারা প্রতিটি হেড জেতে, সর্বত্র ছুটে বেড়ায় এবং অসাধারণ খেলতে থাকে। জাতীয় দলের হয়ে তাদের মধ্যে অন্যরকম কিছু দেখা যায়।"
দুই ডিফেন্ডারের খেলার বৈচিত্র্য তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি তাদের বিশ্বের সেরা-সবচেয়ে বাজে সেন্টার-ব্যাক জুটি বলি। কারণ কখনও তারা অসাধারণ, আবার পরের মুহূর্তেই অবিশ্বাস্য ভুল করে বসে।"
আগামী বুধবার আটলান্টার মাঠে ফাইনালে ওঠার মহালড়াইতে নামবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। একদিকে যেখানে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ছুঁয়ে দেখার মঞ্চে যাওয়া, অন্যদিকে দীর্ঘ ৬০ বছরের বিশ্বমঞ্চের খরা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ ইংলিশদের সামনে।