
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নরওয়েকে জয় এনে দিয়েছেন এরলিং ব্রাউট হালান্ড। তবে সামনে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকায় সম্ভাবনার হিসাব কষতে গিয়ে বেশ সতর্ক ও বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার।
মঙ্গলবার আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। ম্যাচের শুরুতে আন্তোনিও নুসার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে আমাদ দিয়ালো সমতা ফেরালেও যোগ করা সময়ে হালান্ডের গোলেই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হয়।
চলতি আসরে ইতোমধ্যে পাঁচ গোল করা হালান্ড ম্যাচ শেষে বলেন, আইভরি কোস্ট তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা তৈরি করেছিল। তবে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত দল জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে।
শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হালান্ডের সোজাসাপ্টা উত্তর, "সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।"
তবে আত্মবিশ্বাস হারাতে রাজি নন তিনি। তার মতে, নরওয়ের শেষ ষোলোতে ওঠাটাই অনেকের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। এখন ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে খেলাটা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সেটি উপভোগ করতে চায় দল।
ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড বলেন, "এটা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। ২৮ বছর পর আমরা বিশ্বকাপে ফিরেছি, গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছি, এখন আরও একটি ধাপ এগিয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "এখন থেকে যা কিছু অর্জন হবে, সবই আমাদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি। আমরা কোনো চাপ ছাড়াই খেলতে পারব এবং মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারব।"
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের একটি সুখস্মৃতিও রয়েছে। ১৯৯৮ সালের আসরে তারা ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল। যদিও সেই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি।
দলের অধিনায়ক মার্টিন ওদেগার্ডও ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চিত। তিনি বলেন, "ছোটবেলা থেকেই নরওয়ে-ব্রাজিল ম্যাচের গল্প শুনে বড় হয়েছি। এবার নিজেরাই সেই ম্যাচের অংশ হতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চেয়ে বড় প্রতিপক্ষ খুব কমই আছে।"
তিনি যোগ করেন, "ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব। আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি, আরেকটি ইতিহাস গড়া যায় কি না।"
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।