
শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনাই, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের নাম কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া আফ্রিকার দেশটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যার নিষ্পত্তি হতে লাগে অতিরিক্ত সময়। ১২০ মিনিটের নাটকীয় লড়াই শেষে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
গ্রুপ পর্বেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিল কেপ ভার্দে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ সমতা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে আরেকটি ড্র করে তারা নকআউট নিশ্চিত করেছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার তারা দুইবার পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় ফেরে এবং ম্যাচকে নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অবশ্য আর্জেন্টিনার দখলই দেখাচ্ছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৬৪ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং ২২টি শট নেয়, যার ১০টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ৩৬ শতাংশ বল দখলে রেখেও কেপ ভার্দে ১৬টি শট নেয় এবং এর মধ্যে পাঁচটি ছিল গোলমুখে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে তারা বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে।
কেপ ভার্দের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। একাই আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। আক্রমণভাগে ডেরয় দুয়ার্তে ও সিডনি কাবরালের গোল আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব।
তবে শেষ হাসি হাসে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১১১তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে কেপ ভার্দের ডিনি বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলেই এগিয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এর আগে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে তুলনামূলক সহজ জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে এসে প্রথমবারের মতো প্রকৃত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। তারকাখচিত স্কোয়াড, অভিজ্ঞতা কিংবা র্যাঙ্কিং—কোনোটিই আফ্রিকার দলটির সাহসী ফুটবলকে ম্লান করতে পারেনি।
এখন শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার সামনে মিশরের চ্যালেঞ্জ। সেই বাধা পেরোতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড। আর সেমিফাইনালে উঠলে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকতে পারে ব্রাজিল, ইংল্যান্ড কিংবা স্বাগতিক মেক্সিকো।
তবে সামনে আরও বড় লড়াই অপেক্ষা করলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে এই ১২০ মিনিটের ম্যাচটি হয়তো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাই হয়ে থাকবে।
পরাজিত হলেও কেপ ভার্দে বিদায় নিয়েছে সম্মান নিয়ে। ফলাফল আর্জেন্টিনার পক্ষে গেলেও, নিজেদের লড়াকু ফুটবল দিয়ে তারা জয় করেছে কোটি দর্শকের হৃদয়।