
আসামের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা নিয়ে রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত কয়েক সপ্তাহের প্রচারযুদ্ধ শেষে আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন ব্যালট ও ইভিএম-এর মাধ্যমে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে থাকবে দিসপুরের শাসনভার।
প্রাথমিক গণনায় বিজেপির আধিপত্য
সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় আসামের ১২৬টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা শুরু হয়। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক প্রবণতা বা 'ট্রেন্ড' অনুযায়ী, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও তাদের শরিক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, তারা ইতোমধ্যে ৭০টিরও বেশি আসনে লিড নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের এই ফলেই স্পষ্ট হবে এনডিএ কি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের হ্যাটট্রিক করবে, নাকি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট দীর্ঘ এক দশক পর আবার মসনদে ফিরবে।
গণনাকেন্দ্রের বিন্যাস ও নিরাপত্তা
রাজ্যের ৩৫টি জেলার ৪০টি নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে চলছে এই গণনা কার্যক্রম। প্রশাসনিক সুবিধার্থে আসন বিন্যাস অনুযায়ী গণনাকেন্দ্রগুলোর অবস্থান নিম্নরূপ:
অধিকাংশ জেলায় একটি করে কেন্দ্রে ভোট গণনা হচ্ছে।
নগাঁও জেলায় সর্বোচ্চ তিনটি আলাদা কেন্দ্রে চলছে এই প্রক্রিয়া।
কোকরাঝাড়, তিনসুকিয়া ও জোরহাট জেলায় দুটি করে গণনাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি দাবি
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি শিবির। তাদের দাবি, শেষ পর্যন্ত এনডিএ জোটের আসন সংখ্যা ১০০-র কাছাকাছি গিয়ে ঠেকবে।
অন্যদিকে, ১০ বছর পর হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে মরিয়া গৌরব গগৈর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। তাদের জোট ‘আসোম সনমিলিত মোর্চা’ (এএসএম) আশাবাদী যে, তারাও প্রায় সমান সংখ্যক আসন দখল করে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে সক্ষম হবে।
দিন যত গড়াবে, এই সংখ্যাতাত্ত্বিক লড়াই তত পরিষ্কার হবে এবং দিসপুরের ভাগ্য কার দিকে হেলে পড়ে তা জানা যাবে।