
বিদেশি ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভরতা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, এভাবে চললে জাতি আত্মনির্ভরভাবে দাঁড়াতে পারবে না।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, এইজন্য সমাজকে আর দেখেনা। আসুন আমরা ট্রান্সপারেন্সি গ্লাস দিয়ে সমাজটাকে দেখি। সমাজের মানুষের হাহাকার বোঝার চেষ্টা করি।’
কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কৃষি বাঁচলে, দেশ বাঁচবে এটা যেন আমরা ভুলে না যাই। সমাজে যার যেখানে গুরুত্ব পাওয়া উচিত, তাকে ততটুকুই দিতে হবে। কৃষি আমাদের প্রধান, কৃষি আমাদের দ্বিতীয়, কৃষি আমাদের তৃতীয়।’
জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ছাড়া আমাদের কোনো চাকাই চলবে না। সব অচল। ড. মিজান সাহেব বলেছেন জ্বালানির একটা অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইমপোর্ট করি। আমাদের নিজেদের সক্ষমতা রয়েছে বিশেষ করে পেট্রোল এবং অকটেনের ক্ষেত্রে শতকরা ৫০ %ভাগ।’
দেশের সম্পদ আহরণে ঘাটতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ অফুরন্ত সম্পদ রেখেছেন আমাদের এখানে। কিন্তু আমরা সেসব তুলে আনতে পারছি না। আমাদের এক্সপার্ট নেই। আমাদের সম্পদ যেন আমরাই তোলার ব্যবস্থা করতে পারি তারও কোনো উদ্যোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখিয়েছেন জ্বালানি মজুদ আছে। কিন্তু সাইনবোর্ডে লেখা জ্বালানি নেই। তেল নেই। পরে আবার ধরা পরছে। এদিকে জাতিসংঘ থেকে বলা হচ্ছে যদিও যুদ্ধ থামে তার প্রভাব কয়েক মাস চলবে বিশ্ব অর্থনীতিতে।’
রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সংসদে গত সরকারের কিছু অধ্যাদেশ ছিল যেগুলা সংশোধন করা খুবই জরুরি ছিল। বিশেষ করে স্বাধীন দুদক কমিশন গঠন করা। মতলব হচ্ছে দেশ চলবে আগের কায়দায়। জীবন গেল, পঙ্গু হলো, ক্ষতি হলো দেশের, মায়ের বুক খালি হলো, বহু বোন তার স্বামী হারালো, বাচ্চারা এতিম হলো... এর জবাব কে দেবে? রাজনীতিবিদদেরই এর জবাব দিতে হবে।’
রাজনীতির গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকল নীতির নিয়ন্ত্রণ রাজনীতির হাতে। রাজনীতি যদি ঠিক থাকে দেশের সব নীতি ঠিক থাকবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএফবির সভাপতি কৃষিবিদ ড. এটিএম মাহবুব-ই ইলাহী (তাওহীদ)। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।