
প্রবাসে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে গিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশী কর্মীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (বিএমইটি) কার্ড বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক কর্মী ছাড়পত্র পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণাও আসছে।
হাসনাতের দাবি, প্রকাশ্যে কার্ড দেওয়া বন্ধ থাকলেও গোপনে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ‘ব্যাক চ্যানেলে’ বিএমইটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঘুষ নেওয়ার প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশের এক কোটির বেশি অভিবাসী প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার পাঠান, যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। কাজের ভিসায় বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের বিএমইটি থেকে ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অভিবাসী কর্মীদের জন্য প্রথমেই একটি নিবন্ধনভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্য একীভূত করে একটি ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি বিএমইটিকে ‘গেটকিপার’ নয়, বরং একটি ডিজিটাল নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ হিসেবে রূপান্তরের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শারীরিক প্লাস্টিক কার্ডনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে ডাটাবেজভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা উচিত।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপের বরাত দিয়ে হাসনাত বলেন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো প্রধান গন্তব্যে একজন বাংলাদেশি কর্মীর গড় অভিবাসন ব্যয় প্রায় ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এই অর্থ তুলতে একজন কর্মীর গড়ে ১৭ দশমিক ৬ মাস সময় লাগে।
তাঁর অভিযোগ, ঘুষ, দালালচক্র ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হলে প্রকৃত অভিবাসন ব্যয় ৫ লাখ টাকারও বেশি হয়।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যারনির্ভর নিবন্ধন ব্যবস্থা সংস্কার এবং পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও হয়রানিমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।