
মৌলভীবাজারে আজিজুল মিয়া হত্যা মামলায় দুই সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন চারজন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক ফাহমিদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন রাজনগর উপজেলার মুনিয়ারপাড় গ্রামের রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়া। তারা সম্পর্কে সহোদর।
আদালত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
অন্যদিকে, একই গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও রিপন মিয়াকে হত্যাকাণ্ডে সহায়তার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সালিশকে কেন্দ্র করে বিরোধ, পরে হত্যাকাণ্ড
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত আজিজুল মিয়া (৪৫) স্থানীয় পঞ্চায়েতের সালিশ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
২০১৩ সালে একটি বিচার-সালিশকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে আসামিপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জেরে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আজিজুল মিয়ার ওপর হামলা চালান। হামলার একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়াকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেন।
আর হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জয়নাল আবেদীন ও রিপন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আসামিদের মধ্যে স্বপন মিয়া, জহির মিয়া, কমরু মিয়া ও ফয়ছল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে রুবেল মিয়া ও রিপন মিয়া ছাড়া বাকি দুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল মিয়া এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ছাড়া অন্য দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে ছিলেন।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
অন্যদিকে, আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ও নিহতের স্বজনরা।
মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। অপরাধ করে কেউ আইনি সাজা থেকে রেহাই পাবে না—এ রায় তারই দৃষ্টান্ত।