.png)
বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। সংসদীয় আসন সংখ্যা ৩০০টি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বাংলাদেশে বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। বিগত ১৫/১৭ বছর বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে ছিল কারণ বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা তারা গণতন্ত্রের বাইরে নিয়ে গিয়ে ৩টি নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতার/নির্বাচনের বাইরে রেখেছে এবং বাংলাদেশের মানুষকেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
ফ্যাসিবাদী ১৫/১৭ বছরে এ দেশের সাধারণ জনগণ ও বিএনপি তথা সকলের উপর অমানবিক নির্যাতন, হামলা, গুম, খুন ও মামলার মাধ্যমে সকল স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেছে। এই হামলা, মামলা ও নির্যাতন সহ্য করে অনেকে টিকে ছিল শুধু বিএনপিকে ভালোবাসে বলে।
আমার মতো অনেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থেকেও বিএনপির সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছি। নেতৃত্ব পর্যায়ে অনেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এতে করে অনেকে গুম হয়েছেন। অনেকে ৫০০-এর অধিক মামলা নিয়েও রাজনৈতিক মাঠে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন।
ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে গত বছর ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের বিদায় হলে আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হলে ০৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকা প্রকাশের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলে আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছেন। এর আগে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত দিয়েছিলেন।
আমি মনে করি সবার শর্ত অনুযায়ী সবাই যোগ্য, কিন্তু মনোনয়ন তো দিতে হবে ৩০০ জনকে। তার মধ্যে কর্মী দলগুলোও রয়েছে। তাই সকলকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমি/আমরা মনে করি ৩০০ জনের বাইরে আরও যে ২৭০০ জন থাকবেন সবাই নির্বাচনের মাঠ থেকে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন। কারণ ধানের শীষ হেরে গেলে আমরা সবাই হেরে যাব।
শুধু আপনারা ২৭০০ জনের মনোনয়নের কথা চিন্তা করলে হবে না। কারণ প্রতিটি আসনে ৩,৫০,০০০ / ৪,০০,০০০ ভোটার আছে। আমরা দল থেকে কিছু পাওয়ার জন্য নয়, দলকে ভালোবেসে সুন্দর জীবন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিএনপিকে নির্বাচিত করতে হবে।
মনে রাখবেন ব্যক্তিকে নয়, প্রতীককে নির্বাচিত করুন। আরও একটি বিষয় মনে রাখবেন—স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করলে কী হবে, আগে অনেকেই দেখেছেন। ধানের শীষ প্রতীক না থাকলে আপনাকে অনেকেই জিজ্ঞাসাও করবে না। তাই ব্যক্তিকে নয়, প্রতীককে নির্বাচিত করুন। যে ২৭০০ জন মনোনয়ন পাননি, তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে যোগ্য করে তুলুন—যেন পরের নির্বাচনে আপনার যোগ্যতার কারণে দল আপনাকে মনোনয়ন দেয়।
অনেকে চিন্তা করেন যারা মনোনয়ন পেয়েছে তারা টাকার বিনিময়ে পেয়েছে, যারা পায়নি টাকার কারণে পায়নি। যদি এই ৩০০ জনকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে ঠিক একই কথা বলবে। মনোনয়ন দিতে গিয়ে ২/১টা ভুল সিলেকশন হতে পারে—এর বেশি কিছু নয়।
লেখক: মোঃ ইকবাল হোসেন রাজু
রাজনৈতিক কর্মী