
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আবারও ইরানের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ জানান।
বৈঠকে খলিলুর রহমান হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতিপ্রাপ্ত ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অঞ্চলের পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বিষয়ে উভয় দেশ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। খলিলুর রহমান চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরে সকল পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যেকোনো মতপার্থক্য সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা উচিত। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এ অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে বৈঠকেও ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সেসময় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষরের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয়।
খলিলুর রহমান আরও জানান, এর আগে ইরান থেকে আজারবাইজানে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতার জন্য তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।