
নতুন বছরের প্রথম দিনেই সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য আশার আলো জ্বালাল বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমানত ফেরত দেওয়ার সময়সূচি ও সাধারণ আমানতকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিমালাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন। এই ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।
নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এই পাঁচটি ব্যাংককে অধিগ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যাংকের চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত নতুন ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি আমানতকারীর সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ওই অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রেজল্যুশনের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর জন্য আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক যদি এই অর্থ উত্তোলন না করেন, তবে তিনি তার জমাকৃত টাকার ওপর বাজারভিত্তিক মুনাফা পাবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার সরাসরি দিয়েছে। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির স্থায়ী আমানত এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধনে রূপান্তর করা হবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, জয়েন্ট ভেঞ্চার, বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিদেশি দূতাবাস এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।