
ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন খরচ এবং শিক্ষাসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি ও বিভিন্ন খণ্ডকালীন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। আর্থিক সংকট সামাল দেওয়া এবং পরিবারের ওপর চাপ কমাতেই তারা এ পথ বেছে নিচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই মাসে দুই থেকে চারটি টিউশনি করানোর পাশাপাশি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করছেন। এসব কাজ থেকে পাওয়া আয় দিয়ে আবাসন, খাবার, যাতায়াত এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত কাজ করায় সময় ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে কাজের সমন্বয় করতে গিয়ে মানসিক চাপও বেড়ে যায়। তবুও আর্থিক বাস্তবতার কারণে এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. নাজমুল কায়েস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে। তাই প্রয়োজনের তাগিদে খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সবাইকে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সহায়তা করা সম্ভব নয়, সেই সক্ষমতা আমাদের নেই। তবে কেউ যদি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে, তাহলে তাকে সহযোগিতার চেষ্টা করি।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি বৃত্তি, স্টুডেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গবেষণা সহকারী নিয়োগ এবং আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও সময়ের দাবি।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে টিউশনি ও খণ্ডকালীন কাজ শুধু অতিরিক্ত আয়ের উৎস নয়, বরং উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার অন্যতম প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছে।