
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুরুতর আহত ও তিনজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২১তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আহত শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন অনির।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে সংঘর্ষ ক্যাম্পাসের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে রড ও পাইপ ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফীন এবং ১৭ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিয়ন বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন অনির বলেন, আগের রাতে ১৫তম ব্যাচের ইমন ও সায়েব তাকে অনিকের সঙ্গে রাজনীতি করার কারণে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং মারধরের হুমকি দেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলাউদ্দিন অনিরের দাবি, পরদিন তারা ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটের পাশে বসে চা খাওয়ার সময় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অতর্কিতভাবে তাদের ওপর রড নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি নিজেসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এ সময় অর্থনীতি বিভাগের ২১তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যায় বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের ১৭ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিয়ন বিন হক অনিক বলেন, শামসুল আরেফিনের গ্রুপের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে বাংলা বিভাগের ইমন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন সাইফসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনিক বলেন, হামলার আগের রাতেও তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে রবিবার ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটের পাশে চা খাওয়ার সময় তাদের ওপর রড ও পাইপ নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শামসুল আরেফিনের গ্রুপের অধিকাংশ নেতাকর্মীর ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনিক।
এ দিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘দুই গ্রুপের নাম জানি না, তবে সংঘর্ষ হয়েছিল। আমরা পুলিশ ডেকে নিয়ে আসছি। এখন মোটামুটি পরিস্থিতি শান্ত আছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি। টুকটাক হয়তো লেগেছে।’
ঘটনার বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।