
গাজীপুরের শ্রীপুরে সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর শিল্প পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেন সি স্টেজ বিডি লিমিটেডের শ্রমিকেরা।
বারবার আশ্বাস দিয়েও মেলেনি বেতন
শ্রমিকদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বুধবারের আগের দিন তাঁরা বিক্ষোভ করেছিলেন। তখন কারখানা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিয়ে বুধবার পরিশোধের নতুন সময়সীমা জানানো হয়।
কিন্তু বুধবারও বেতন না পেয়ে শ্রমিকেরা হতাশ হন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁরা এমসি বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল যান চলাচল
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া বেতন পরিশোধের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
দ্রুত বেতন পরিশোধের উদ্যোগ
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম জানান, সি স্টেজ বিডি লিমিটেডের শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে মালিকপক্ষের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাঁরা সড়ক ছেড়ে যাননি।
তিনি বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ কমানো এবং যান চলাচল সচল রাখার জন্য সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কারখানা থেকে গোপনে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এমন গুঞ্জন সঠিক নয় বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।