
জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ‘ফেস দ্যা পিপল’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সাইফুর সাগর এবং গণমাধ্যমটির সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সুমন চন্দ্র শীলের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দাখিল করা ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন ‘ফেস দ্যা পিপল’-এর সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধা দাবি বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ম্যানেজার (লিগ্যাল) মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে অভিযোগ করা হয়, গত ২৫ জুন দুপুরে ‘ফেস দ্যা পিপল’-এর এডিটর ও রিপোর্টার মো. ইউসুফসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন সংবাদকর্মী ক্যামেরা নিয়ে হাজারীবাগের বাড়ৈখালীতে অবস্থিত মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
জিডিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তারা অনৈতিক ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করলে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার হুমকি দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশে তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মাস্তুল ফাউন্ডেশনের বাড়ৈখালী কার্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ‘ফেস দ্যা পিপল’ একটি অনলাইন গণমাধ্যম, যার প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক সাইফুর সাগর। তবে ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ জুন দুপুরে ‘ফেস দ্যা পিপল’-এর সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাদী বা মাস্তুল ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
তদন্তকালে সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ সুবিধা দাবি কিংবা কোনো ধরনের হুমকি দেওয়ার ঘটনারও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিক তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে করা অভিযোগটি অমূলক এবং এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
হাজারীবাগ থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) প্রতিস্বাক্ষরসহ তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।