
ফেনীতে মহিলা জামায়াতের বিরুদ্ধে দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিতে কোরআন শপথ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে জামায়াতের দাবি কোরআনের ক্লাসে বাধা দিয়েছে যুবদল নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ, উত্তেজনার পাশাপাশি তোলপাড় চলছে জেলাজুড়ে।
রোববার (১০ জানুয়ারি) বিকেল জেলার সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর জামায়াত নেতা কাশেম মিয়ার বাসায় মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। এ সময় তারা আশপাশের কিছু নারীকে কোরআনের ক্লাসের দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনেন। সেখানে থাকা কয়েকজন নারী তাদের কোরআন শপথ করে দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিতে শপথ করানোর চেষ্টা করেন। ওই নারীরা চিৎকার করে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও বাধা দেন জামায়াত নেতারা। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে স্বজনদের ফোন করে উদ্ধারের আহবান জানান আমন্ত্রিত নারীরা। খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে নারীরা অভিযোগ করেন, কোরআন ক্লাসের আড়ালে ভোট চাওয়া হচ্ছে এবং জান্নাত–জাহান্নামের ভয় দেখানো হচ্ছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা নুর আলম জিকু, এনাম, ইকবালসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন।
এদিকে, মহিলা জামায়াতের নেতারা জানান, আমরা শুধু আমাদের নিয়মিত কোরআন ক্লাস পরিচালনা করছিলাম। সেখানে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল না। ঘটনার পর স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নূরনবী ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা যুবদল সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞা বলেন, কোরআনের নামে ভোট চাচ্ছিলো জামায়াত। কোরআন কারো একার সম্পত্তি না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সেখানেই সমাধান করে এসেছে।