
বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন ইতোমধ্যেশুরু হয়ে গেলেও ইরানের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চয়তার কুয়াশায় ঢাকা। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানো না হলে বিশ্বকাপে ইরানের খেলার সম্ভাবনা ‘খুবই কম’। নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই অবস্থান থেকে আপাতত একচুলও সরে আসছে না তেহরান।
ইরান ইতিমধ্যে ফিফার কাছে ম্যাচ ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় সরানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জবাব না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। একটি গণমাধ্যমকে দোনিয়ামালি বলেন, ‘আমাদের অনুরোধ এখনো বহাল আছে। যদি এটি গ্রহণ করা হয়, তাহলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ‘এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।’
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা। ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। এরপর একই শহরে ২২ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে। যদিও আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা, তবু অধিকাংশ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাই এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি যুদ্ধাবস্থায় রূপ নেয়, যার প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। নিরাপত্তা শঙ্কা থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অনাগ্রহী। এমনকি দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজও ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। একদিকে তিনি ইরানকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত জানানোর কথা বলেছেন, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছেন। এতে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সূচি অনুযায়ীই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখানে প্ল্যান ‘এ’ ছাড়া অন্য কিছু নেই। ম্যাচগুলো যেখানে নির্ধারিত, সেখানেই হবে।’ তবে ইরান যেন নিরাপদ পরিবেশে খেলতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন টানটান উত্তেজনার। একদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চ, অন্যদিকে নিরাপত্তা শঙ্কা। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন দোদুল্যমান। শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে নামবে, নাকি সরে দাঁড়াবে, সেই উত্তর মিলবে সময়ের হাত ধরেই।