
শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানোর বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই জোটে এখন ৫৭টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্যোগটির নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন মেলানিয়া ট্রাম্প। এতে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস বা সমপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের নেতারাও অংশ নেন।
‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর মূল লক্ষ্য শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশের সুযোগ বাড়ানো। উদ্যোগটির কাজের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো—শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, শিক্ষাপ্রযুক্তি, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল দক্ষতা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ফার্স্ট স্পাউস বা সমপর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ক্ষেত্রে কাজ করছেন।
চলতি বছরের ২৪ ও ২৫ মার্চ ওয়াশিংটনে এই উদ্যোগের প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় ৪৫টি দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প নতুন সদস্য দেশগুলোকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে জি২০ভিত্তিক অনুষ্ঠান, ফিলিপাইনের ফার্স্ট লেডি লিজা আরানেতা মার্কোসের আয়োজনে আসিয়ান সম্মেলন, পোল্যান্ডের ফার্স্ট লেডি মার্তা নাভরোকিয়ার আয়োজনে ইউরোপীয় আঞ্চলিক বৈঠক এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের ফার্স্ট লেডি দিয়ানি প্রিন্স-ড্রুর আয়োজনে ক্যারিবীয় আঞ্চলিক বৈঠক।
এর পাশাপাশি শিশুদের প্রযুক্তির সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের কথাও জানিয়েছে উদ্যোগটি। মেলানিয়ার ঘোষণায় অ্যাডোব, অ্যামাজন, ইনটেল, স্টারলিংক, গুগল ও জুমের নাম রয়েছে।
‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় যাত্রা শুরু করে। এর লক্ষ্য শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো।