
যশোরে এক বিশাল জনসভায় দেওয়া নতুন রাজনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণায় নারীদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, এখন থেকে দেশের মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে, যা নারী শিক্ষার প্রসারে নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।
সোমবার বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রায় ২৮ মিনিটের বক্তব্যে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
তিনি বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। পরে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন। তাঁর সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে।’
নারী ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কিছু সামাজিক সুবিধার কথাও জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের আওতা পর্যায়ক্রমে এক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি এলপিজি গ্যাস কার্ড চালুর মাধ্যমে গৃহস্থালির রান্নার খরচ কমানোর উদ্যোগের কথাও জানান।
দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শিল্পকারখানা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করে দেশে আর কাউকে হরতাল করার সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতে ১৭৩ দিন হরতালের যে ধ্বংসাত্মক অভিজ্ঞতা আমরা দেখেছি, সেই পরিস্থিতি আর ফিরতে দেওয়া হবে না।’