
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ এবং সন্ত্রাসে সমর্থন প্রত্যাহারের বিনিময়ে দেশটিকে পূর্ণ অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে মঙ্গলবার ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় তাঁর প্রশাসন। তখন পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সন্ত্রাসে সমর্থন প্রত্যাহারের বিনিময়ে তেহরানকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তবে ইরান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি তেহরানের সিদ্ধান্তকে ‘বড় ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের সরকার ও দেশটির আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত্যু, ধ্বংস ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ও আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, এখন ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে দেশটিকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এ নিয়ে তাঁর সামনে সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে।
ইরান অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনায় ফিরতে তেহরান যুদ্ধ বন্ধ, হিমায়িত অর্থ ছাড় এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো শর্ত দিয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।