
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আবারও কঠোর সমালোচনা করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মামদানির ভাষ্য, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চালানো ভয়াবহ গণহত্যার মূল কারিগর।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গ্রেসি ম্যানশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মামদানি। তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
‘নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী’
মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুকে তিনি যেভাবে দেখেন, সে অবস্থান থেকেই তার সম্পর্কে কথা বলেছেন। তার মতে, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চালানো ভয়াবহ গণহত্যার মূল কারিগর।
নিউইয়র্ক সফরের সময় নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি কয়েক মাস ধরেই জানিয়ে আসছেন মামদানি। তবে মেয়র হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করার মতো কোনো আইনি ক্ষমতা তার নেই।
সম্প্রতি মামদানি নিজেই স্বীকার করেছেন, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঠেকানোর ক্ষমতাও তার নেই। এ কারণে নেতানিয়াহুর সফরের বিরুদ্ধে আয়োজিত কোনো বিক্ষোভে তিনি অংশ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন।
আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে মামদানি বলেন, এই পরোয়ানাকে সম্মান করা উচিত। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে এমন পরোয়ানা রয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। কোনো দেশ নিজে এসব অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে নির্দিষ্ট শর্তে আদালত ওই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল—কোনো দেশই আইসিসির সদস্য নয়। ইসরাইল আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না। দেশটির দাবি, ফিলিস্তিন সার্বভৌম রাষ্ট্র না হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের বিষয়েও আইসিসির কোনো এখতিয়ার নেই।
গাজায় গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। দেশটির দাবি, বেসামরিক মানুষের হতাহত কমাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলের অভিযোগ, হামাস বেসামরিক মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন নেতানিয়াহু
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। বুধবার নিউইয়র্কে পৌঁছে শুক্রবার তার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো বৈঠকের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অভিবাসন ও আবাসন
এদিকে ট্রাম্প ও মামদানির বৈঠকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মজীবী মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, “আশা করি আপনি একজন দুর্দান্ত মেয়র হবেন। শুরুটা ভালোই করেছেন।”
মামদানি জানান, নিউইয়র্ক নগরীর প্রতি প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতিকে তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে ট্রাম্পসহ যে কারও সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
গত বছরের নির্বাচনে মামদানি জয়ী হওয়ার পর ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল