
নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের চার দিনের বৈঠক শেষ হয়েছে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন ছাড়াই। সীমান্ত পরিস্থিতি, সংঘর্ষের অভিযোগ এবং বেড়া ভাঙার মতো বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় এলেও বৈঠক শেষে কোনো যৌথ ব্রিফিং না হওয়ায় বিষয়টি নজর কেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বৈঠকটি শেষ হয় বলে জানা গেছে। আলোচনায় বিএসএফ জওয়ান ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর বাংলাদেশি নাগরিকদের হামলা এবং সীমান্ত বেড়া ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে কথা হয়েছে বলে পিটিআই জানিয়েছে। তবে বৈঠক শেষে দুই পক্ষের ডিজি পর্যায়ে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়নি। এর বদলে শুধু আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রেস বিবৃতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
গত সোমবার বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে পৌঁছে বিএসএফ ডিজি প্রবীণ কুমারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন। মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফ সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ৫৭তম ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক।
চলতি বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটিই ছিল দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এর আগে ঢাকায় বলেছিলেন, বিএসএফের তথাকথিত ‘পুশ ইন’ এবং সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনাগুলো বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন না হওয়া দুই বাহিনীর দীর্ঘদিনের বৈঠকের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সীমান্ত ডিজি পর্যায়ের এই বৈঠক প্রতিবছর একবার অনুষ্ঠিত হতো। পরে ১৯৯৩ সাল থেকে এটি বছরে দুইবার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়, যেখানে পালাক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায়, তখন বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল।
ভারত-বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার অংশ এখনো বেড়াবিহীন, যার মধ্যে ১৭৪.৫১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ অর্থাৎ শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কারের ধারাবাহিক থ্রিডি অ্যাকশনের মুখোমুখি হতে হবে।