
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলমগীর একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা হওয়ায় সে একটি ওষুধের দোকানে যায়। ওই দোকানে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন আলমগীর।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ভালো করে দেওয়ার কথা বলে আলমগীর তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে তাকে জিজ্ঞাসা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার কথা জানায়। এরপর তার বাবা থানায় গিয়ে মামলা করেন।
শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘২০২২ সাল পর্যন্ত আলমগীর জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনও কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গতকাল শনিবার রাতে মামলা করেন। ওই মামলায় রাতেই আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে আলমগীরকে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে।