
শহরকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকাতেও উন্নত মোবাইল সেবা নিশ্চিত করতে অপারেটরদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, শহরে বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি লাভজনক হলেও গ্রামের মানুষকে মানসম্মত মোবাইল সেবা থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোবাইল অপারেটর রবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকাজুড়ে রবির নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের অগ্রগতি তুলে ধরতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনে শহরের তুলনায় ব্যবসায়িক লাভ কম হওয়ায় অপারেটররা সাধারণত শহরকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের জন্য সমমানের মোবাইল সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিজের নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গ্রামে গেলে মানুষের হাতে রবির সিম তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। তাই গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক ও সেবার পরিধি বাড়াতে রবির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে টাওয়ার শেয়ারিংয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তার মতে, একাধিক অপারেটর একই অবকাঠামো ব্যবহার করলে দুর্গম ও কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ আরও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে রবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত তিন মাসে বৃহত্তর ঢাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জও। নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের পর বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে এবং কল ড্রপ কমেছে ২০ শতাংশ।
এ ছাড়া ঢাকা ও গাজীপুরে ঘরের ভেতরের নেটওয়ার্ক কাভারেজ আগের তুলনায় তিনগুণ হয়েছে বলে দাবি করেছে রবি।
তবে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের পরও সব এলাকায় প্রত্যাশিত মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা। নতুন সাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এখন সেবার মানই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্রাহক উন্নত সেবা পেলে তা পুরো খাতের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, মাত্র তিন মাসে প্রায় ৫ হাজার সাইটে কাজ সম্পন্ন করা একটি বড় অর্জন। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।