
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী ও প্রতিশোধমূলক সামরিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ার। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রণক্ষেত্রটি এতটাই বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে যে, সামান্য একটি ভুল হিসাব-নিকাশ কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পুরো পরিস্থিতি চোখের পলকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ‘চোখের বদলে চোখ’ ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার ধারাবাহিকতা এমন এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে কোনো স্থিতিশীল রাজনৈতিক সমাধান এখনো দেখা যাচ্ছে না।
যুদ্ধ থামানোর কোনো লক্ষণ এই মুহূর্তে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও অনেক দূরের বিষয়। বিশেষ করে লেবানন ও গাজা এখনো কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমঝোতার আওতায় আসেনি।”
ম্যাগনিয়ারের চুলচেরা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলমান এই সংকটের সবচেয়ে ভীতিজনক দিকটি হলো—সংঘাতের ময়দানে মুখোমুখি থাকা উভয় পক্ষই এক ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগছে এবং তারা মনে করছে যে যুদ্ধের তীব্রতা বা মাত্রা কতটুকু হবে তা তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
এই ভ্রান্ত ধারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, প্রত্যেক পক্ষ বিশ্বাস করে যে তারা সংঘাতের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। কিন্তু একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে সংযম ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আর যদি আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তাহলে বর্তমানে নিয়ন্ত্রিত বলে মনে হওয়া এই উত্তেজনা আরও বড় আকারের সংঘাতে পরিণত হতে পারে।”
ভয়াবহ এই পরিস্থিতির গভীরতা বোঝাতে ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতার উদাহরণ টেনে এই ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেন, অনেক সময় এমন একটি মাত্র আঘাত বা হামলা সীমান্ত পার হয়ে যায়, যা পুরো পরিস্থিতিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেয়।
তাঁর ভাষায়, “ইতিহাস দেখিয়েছে, একটি হামলা যদি লাল রেখা অতিক্রম করে, তাহলে পাল্টাপাল্টি আঘাতের এই চক্র খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর সরাসরি পালটাপালটি সামরিক অভিযানের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলের আশঙ্কা, চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে এই সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে।