
ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। বন্যায় রাজ্যের দুই হাজারের বেশি গ্রামের ১১ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় তিনি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১৬২টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এসব শিবিরে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদী বন্যার ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, শুক্রবার চরাইদেও জেলায় সাতজন, শিবসাগরে ছয়জন এবং জোরহাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন মৃত্যুর ঘটনায় শিবসাগর জেলায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে পৌঁছেছে। জেলাটিতে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার তালিকায় রয়েছে শিবসাগর, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া চরাইদেও জেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং জোরহাট জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।