
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তুলনায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে বেশি আগ্রহী হতে পারেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত আলী খামেনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিলেও পারমাণবিক বোমা তৈরির বিরোধিতা করতেন। তবে মোজতবা খামেনি কখনও প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে অবস্থান না নিলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি এবং ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে সেই পথে এগোতে পারেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা যদি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সিদ্ধান্তের দিকে আরও উৎসাহিত করে থাকে, তাহলে সেটি চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর আরও শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায়ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মোজতবা খামেনির অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তাদের অধিকাংশ গোয়েন্দা তথ্য যুদ্ধ শুরুর আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংঘাতের সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপর থেকে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেও এখনও তিনি তার বাবার মতো পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। ৩৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটি বিদ্যমান পারমাণবিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে কিছু সেন্ট্রিফিউজ মধ্য ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ স্থানান্তরের চেষ্টা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
প্রতিবেদনটি মূলত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন ও কর্মকর্তাদের দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এসব বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।