
নারায়ণগঞ্জের হাজীপুরে অসাবধানতাবশত উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহমদ আলী (৪০) নামে এক স্কুল দপ্তরির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে হাজীপুর কবরস্থান রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আহমদ আলী হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব হাজীপুর এলাকার মৃত আমানুল্লাহ মেম্বারের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে পূর্ব হাজীপুর কবরস্থান রোড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজুর বাড়িতে নতুন টিউবওয়েল বসানোর কাজ চলছিল। কাজ করার একপর্যায়ে শ্রমিকরা টিউবওয়েলের লম্বা লোহার পাইপটি ওপরের দিকে তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় অসাবধানতাবশত পাইপটি বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের সাথে লেগে যায়। এতে পুরো পাইপটি মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং পাইপ ধরে থাকা তিন ব্যক্তি গুরুতর দগ্ধ ও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ১০:২০ মিনিটে আহমদ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যান্য আহতদের মধ্যে জুয়েল (২৮) ও জামান (৪৭) নামের দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা উভয়ই নয়ানগর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহত আহমদ আলীর স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি চেয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানান। কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং পরিবারের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহীদ উল্লাহ প্রধান বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সামান্য অসচেতনতা ও অসাবধানতার কারণেই আজ একটি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তারের নিচে কাজ করার সময় গৃহমালিক ও শ্রমিক সবারই আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।" স্কুল দপ্তরির এই আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয় ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।