
নাটোর পৌরবাসীর জন্য আধুনিক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপহার পাওয়া প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার লাইফসাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারের বাহনে রূপ নেয়—আর তাতেই শুরু হয় বিতর্ক। সমালোচনার মুখে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি আবার গ্যারেজে ফিরিয়ে নেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে—মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি আনুষ্ঠানিকভাবে নাটোর পৌর মেয়রের হাতে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দেন।
সর্বশেষ গত সোমবার অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার লাগানো অবস্থায় ভোটের প্রচারণায় ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়। প্রচারের সুবিধার্থে গাড়িটির ওপর সাউন্ড সিস্টেমও বসানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনা শুরু হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নাটোর পৌরসভার কর আদায়কারী জুলফিকুল হায়দার বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স থেকে রাজস্ব আদায় তো হয়ই না, উল্টো অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে মাঝেমধ্যে পৌরসভার অর্থ ব্যয় করতে হয়। জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ায় সেবাগ্রহীতারাও ভাড়া নিতে আগ্রহী হন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি পৌরসভার গ্যারেজে পড়ে ছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সভায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন আমরা অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করি। সেই মোতাবেক অ্যাম্বুলেন্সটি সাজিয়ে গতকাল দুপুরে শহরের রাস্তায় নামানো হয়। কিন্তু সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদলে অ্যাম্বুলেন্সটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।’”
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্সকে ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসকের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। কার সিদ্ধান্তে এটি করা হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, মাত্র দুই ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সমালোচনা শুরু হতেই তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি গ্যারেজে ফিরিয়ে আনা হয়।