
কূটনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সেবায় নারীর অধিকতর সম্পৃক্ততা অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশের মিশনগুলোতে নারী কর্মকর্তাদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এটি কূটনীতিতে ধীরে ধীরে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার বিষয়টিকে প্রতিফলিত করছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অনেক নারী ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আমাদের মিশনগুলোতে কাজ করছেন। এই অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে, যাতে তারা পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারেন।’
তিনি বলেন, আরও বেশি নারীকে ফরেন সার্ভিস ও কূটনৈতিক ক্যাডারে যোগদানে উৎসাহিত করলে তাদের প্রতিভা, যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নত করা সম্ভব হবে।
শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী ভূমিকায় নারীদের আরও সুযোগ দিতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক আলোচনায় ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়।
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন দীর্ঘদিন ধরেই তার দলের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায়ন অর্থবহ করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে তা শুরু করতে হবে।’
ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি গ্রামীণ পর্যায় থেকে নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সহায়তা করছে।
সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নারীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী জাতীয় উন্নয়নে অবদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে তারা কোনো বাধার সম্মুখীন না হন।
প্রতিমন্ত্রী নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও অনলাইন হয়রানি মোকাবিলায় সরকারি সংস্থা, এনজিও ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
শামা ওবায়েদ নারীদের সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে আরও সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নারীদের প্রচার-প্রচারণায় সম্পৃক্ত করলেও প্রার্থী হিসেবে তাদের মনোনয়ন দেয় না বললেই চলে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কথা উল্লেখ করে বলেন, দলটি প্রায়ই নারীদের নির্বাচনি প্রচারণা বা সংবাদমাধ্যমের বিতর্কে রাখলেও নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তবে বিএনপি নারী অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজস্ব নীতি অনুসরণ করে।’
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের নীতিমালা নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের যাতায়াত নিরাপদ করতে আলাদা বাস সার্ভিস চালুর মতো উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট-নারীর সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন ও সমান অংশগ্রহণ অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।’