
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৩৪ জন শিশু।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই পরিসংখ্যানসহ চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৬ জন শিশুই হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে একজন করে শিশু মারা গেছে।
সরকারি হিসাব মতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ ২৪ মে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৬৩ হাজার ৮১৩ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত (Confirmed Cases) হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত আড়াই মাসে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫০ হাজার ৫৫৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৬ হাজার ২১৪ জন। বাকিরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে (সন্দেহভাজন হাম) মোট ৪৪২ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে আড়াই মাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫২৮, যা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান (EPI) কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা যথাসময়ে নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ামাত্রই নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। একই সাথে আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে (আলাদা) রেখে চিকিৎসা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।