
ড্রোন হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) এই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার কারণে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল স্থগিত রাখতে হলেও এতে কেউ আহত হয়নি।
এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে, সময়সূচি বদলানো হচ্ছে কিংবা বিকল্প পথে পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সংকটের কারণে জ্বালানির দামও বাড়তে শুরু করেছে।
সোমবারের ঘটনাটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে তৃতীয়বারের মতো ঘটল। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দর এলাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে। তেহরান জানিয়েছে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়াও ইরাক, জর্ডান ও তুরস্কসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। তবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বেসামরিক স্থাপনাতেও, যার মধ্যে বিমানবন্দর, হোটেল এবং বন্দর অন্তর্ভুক্ত।
দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি ড্রোন সম্পর্কিত একটি ঘটনার কারণে একটি জ্বালানি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক ও টানেলপথে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সময়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্স দুবাইমুখী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে।
দুবাই মিডিয়া অফিস এক্সে আরও জানায়, কয়েকটি ফ্লাইট আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কবে থেকে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো দুই হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের মুখে পড়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন ও সামরিক ঘাঁটি, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো, বাসাবাড়ি ও অফিস ভবন।
২০২০ সালে ইরানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর থেকে হামলার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে দেশটি। তবে উপসাগরীয় অন্য আরব দেশগুলোর ওপরও এসব হামলার প্রভাব পড়েছে এবং তারা সবাই ইরানের নিন্দা জানিয়েছে।
এর আগে ১১ মার্চ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি দুটি ড্রোন আঘাত হানে। সংঘাত শুরুর প্রথম দিনেই উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ইরানের রাতভর হামলার সময় বিমানবন্দরটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।