
দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গে গভীর রাতে একদল বন্দুকধারীর অতর্কিত ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে নারীসহ অন্তত ১২ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ এই সশস্ত্র হামলায় আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। দেশের চরম ঝুঁকিপূর্ণ বস্তি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের তাণ্ডব ও গ্যাং সংস্কৃতির যে ভয়াবহ রূপ, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড তারই একটি নির্মম বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে জোহানেসবার্গ শহরের ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি জনাকীর্ণ বস্তিতে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, একটি সাদা রঙের ‘টয়োটা কোয়ান্টাম’ মাইক্রোবাসে চড়ে ১০ জনেরও বেশি সশস্ত্র সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই এলাকার একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে এসে গাড়ি থামায়। এরপর তারা দ্রুত বস্তির ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং দুটি ভিন্ন প্রবেশদ্বার ব্যবহার করে কৌশলগত অবস্থান নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানে অবস্থানরত নিরীহ বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে তারা চারপাশ থেকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করে।
পৈশাচিক এই তাণ্ডব চালানোর পরপরই হামলাকারীরা তাদের নিয়ে আসা ওই একই গাড়িতে চড়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ওই বস্তিতে প্রচণ্ড গোলাগুলির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বড় দল। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারীর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন পুরুষ শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। এ ছাড়া শরীর ও বুকে গুলিবিদ্ধ অন্তত ৯ জন বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ ও নৃশংস হামলার মূল উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয় এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজন ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে এলাকা জুড়ে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্যাং সহিংসতা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ বিস্তার দেশটির জননিরাপত্তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। দাপ্তরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যার বড় একটি অংশ ঘটে থাকে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এই প্রান্তিক বস্তি অঞ্চলগুলোতে।