
জামিনে মুক্তি পেয়েও স্বাধীনভাবে বের হতে পারলেন না লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব। কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই জেলগেট থেকে তাকে পুনরায় আটক করে পুলিশ, পরে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় বিপ্লবকে জামিন দেন। তবে জামিনের কাগজ দেরিতে পৌঁছানোর কারণে সেদিন মুক্তি পাননি তিনি।
সম্প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে চেয়ারম্যান বিপ্লবের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির দুই নেতার মোবাইল ফোনে কথোপকথনের দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিএনপি নেতারা লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের জন্য ভিজিএফ কার্ডের ৩০ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করেন। ওই কথোপকথনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে বিপ্লবের সংলাপ উঠে আসে।
ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে সবুজ বলেন, ‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?’ জবাবে বিপ্লব বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা মিটিং করেছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।’
এই কল রেকর্ড প্রকাশের পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্ত্রীর অভিযোগ, ভিজিএফ কার্ডে এমপির জন্য বরাদ্দ নিয়ে কথোপকথনের জেরেই তাকে আটক করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর জেলগেটেই তাকে আটক করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছোট ভাই অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজল ও পরিবারের সদস্যরা বিপ্লবকে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের পথরোধ করে। পরে ধস্তাধস্তির মধ্যে তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
এ সময় বিপ্লবের ভাই আইনজীবী হুমায়ুন কবির আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তোর আইনজীবী ছুটায় দেবো।’ ঘটনাটি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সোমবার বিকালে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে আমার বড় ভাইয়ের জামিনে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে জামিনের কাগজ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেরিতে পৌঁছানোয় সেদিন ছাড়া পাননি। মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু জেলগেটের সামনে থাকা ডিবি পুলিশ ভাইকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি, আদিতমারীর বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ করা একটি মামলায় আমার ভাইকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় আমার ভাই এজাহারনামীয় আসামি নন। মঙ্গলবার বিকালে লালমনিরহাটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমার ভাইয়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে কারাগারে পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিবির কাছে তাকে পুনরায় আটকের কারণ জানতে চাইলে আমার সঙ্গে তারা খারাপ ব্যবহার করেন। আমি আইনজীবী, আমাদের একটা সম্মান আছে। এভাবে অপমান করা ঠিক হয়নি ডিবির।’
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের ডিবি পুলিশের ওসি সাদ আহমেদ বলেন, ‘আদিতমারী থানার পুলিশের রিকুইজিশন মোতাবেক ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে জেলগেট থেকে আটক করেছিল ডিবি।’ আইনজীবীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সে বিষয়টি নজরে আসেনি। তবে আসামি আটকের সময় বাধা দিয়েছেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়েছে।’
বিপ্লবের পুনরায় গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন তার ভাই হুমায়ুন কবির।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।