
প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কয়েকটি পরিবার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও নাচোল উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির সময় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে তিন নারীসহ ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এই পৃথক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বজ্রপাতে নিহতরা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার বাসিন্দা মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (১৯), রানীবাজার এলাকার আবুল কাশের মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল (১৪), নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম (৪১) এবং গোসাইপুর গ্রামের মো. শাফিউলের ছেলে হাসান আলি লালু (২১)।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, তাঁর উপজেলায় মাহমুদা আক্তার, সাদিয়া খাতুন ও মেসবাউল নিজ নিজ বাড়ির পাশের আমবাগানে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যান। মূলত ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আম কুড়াতে গিয়ে তাঁরা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত এই তিন পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
অন্য এক ঘটনার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, "আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে আব্দুল্লাহ (১৭) বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গরুটিও মারা যায়।"
এদিকে নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান লাহাবাড়ি এলাকার সুমিয়ারা বেগম। এর বাইরে বিকেল ৫টার দিকে একই উপজেলার গোসাইপুর এলাকায় বজ্রপাতে হাসান আলি লালু নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার তিনটি উপজেলায় বজ্রপাতে একযোগে ছয়জনের এমন অকালমৃত্যুর ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সর্বসাধারণকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।